মাত্র ৭ দিনে ওজন কমানোর উপায়

0
139

আজ আপনাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি একটি বিষয় আমি নিয়ে এসেছি।

বিষয়টি হলো কিভাবে আপনারা আপনাদের ওজন ৭ দিনে কমিয়ে ফেলতে পারবেন।

সত্যি বন্ধুরা ওজন কমিয়ে ফেলার যে প্রক্রিয়া সেটা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া এটা অনেকেই জানে।আর যদি আমাদের এই প্রক্রিয়াটি আপনারা যদি অনুসরণ  করেন তাহলে একটা নিশ্চিত ফলাফল পাবেন আশা করি।

কিন্তু প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার কারণে অনেকে কিছুদিন অনুসরণ করে সেটি ফেলে দেয়। যার কারণে তারা কাঙ্খিত সাফল্য পায়না।

আমার এই ধরনের ব্যস্ত বন্ধুদের জন্য আজকে আমার এই প্রক্রিয়াটি। যে প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করলে আপনারা মাত্র 7 দিনে আপনাদের ওজন কমিয়ে ফেলতে পারবেন।

সত্যি বন্ধুরা,

আপনাদের জন্য আমি নিয়ে এসেছি সাত দিনের একটি স্বাস্থ্যসম্মত ডায়েট প্ল্যান ।

তাহলে বন্ধুরা জেনে নেওয়া যাক প্লানটি।

বন্ধুরা যদি ওজন বাড়তে থাকে, একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে দুশ্চিন্তার পরিমাণ। শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতা কত কিছুইনা ফলো করছেন ,

আমরা ঐ দিকে না গিয়ে শুধুমাত্র আমাদের ৭ দিনের ডায়েট প্লান ফলো করেন।

তাহলে জেনে নেওয়া যাক আমাদের আজকের চমৎকার 7 দিনের ডায়েট প্লান টি।

প্রথম দিনের   ডায়েট প্লান এর রুটিন গুলা আজকে আমি বলতেছি।

ডায়েট শুরুর প্রথম দিন শুধুমাত্র ফল খেতে হবে। অন্য কোন খাবার গ্রহণ করা যাবে না। তবে সবক্ষেত্রেই অনেক পানি পান করতে হবে। এই ক্ষেত্রে আপনি সারাদিন যে কোনো ফল গ্রহণ করতে পারেন,আপনাদের সুবিধার জন্য এটা আপনাদের  ছাড় দেওয়া হলো ।

সকালের নাস্তা৮:৩০ টা থেকে ৯ :00 টার মধ্যে সেরে ফেলার চেষ্টা করবেন। ১ কাপ গ্রীন চা খেতে পারেন। সকাল দশটা থেকে এগারটার মধ্যে সেরে ফেলতে চেষ্টা করবেন এক বাটি কাঁচা পেঁপে, এক থেকে দুই গ্লাস পানি রাখবেন।

দুপুরের খাবার দুপুর ১২  টা থেকে ১  টা ৩০ এর মধ্যে শেষ করতে চেষ্টা করবেন। খাবারের উপকরণ হলো এক বাটি তরমুজ বা দুটি মালটা খাবেন। সাথে এক থেকে দুই গ্লাস পানি খাবেন।

বিকেলের খাবার

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে একটি কমলা ফল খেতে পারেন। সাথে অবশ্যই পানি রাখবেন।

সন্ধ্যার খাবার

সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ৬:৩০ এর মধ্যে আপনি সন্ধ্যার খাবার শেষ করবেন। এক গ্লাস নারিকেলের পানি দিয়ে কিছু স্ন্যাক্স খান।

রাতের খাবার

রাত আট টা থেকে আট টা ত্রিশ এর মধ্যে রাতের খাবার শেষ করুন।

এক বাটি তরমুজ সাথে দুই গ্লাস পানি খাবেন।

দ্বিতীয় দিনের রুটিন

প্রথম দিন সম্পন্ন হওয়ার পর দ্বিতীয় দিনে শুধু সবজি খেতে হবে। সেই ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দিন সবজি ছাড়া কিছুই খাওয়া যাবেনা। সকালের নাস্তায় সকাল আটটা থেকে নয়টা এক কাপ সিদ্ধ আলু।  জলপাইয়ের তেল বা মাখন দিয়ে।  সাথে আপনি অবশ্যই পানি খাবেন এক থেকে দুই গ্লাস।

দুপুরের খাবার

সকাল ১০  টা থেকে ১১ টার দিকে একবাটি বাঁধাকপি কাঁচা, পানি এক থেকে দুই গ্লাস।

দুপুরের খাবার

দুপুরের খাবার অবশ্যই আপনি বারোটা থেকে একটার মধ্যে শেষ করবেন।  দুপুরের খাবারে আপনি শসা রাখবেন,  এক বাটি সেদ্ধ  পেঁপে। দুই গ্লাস পানি খান।

মাঝ দুপুরের খাবার

বিকেল চারটা থেকে সাতটার মধ্যে শেষ করবেন। দুটি চরিত্র খাবেন এক কাপ ফুলকপি আধা সেদ্ধ করে, পানি।

রাতের খাবার রাত আটটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে শেষ করতে চেষ্টা করবেন।  এই সময় আপনি যা খাবেন তাহলো লবণ ও মসলা দিয়ে সেদ্ধ করা ফুলকপি।  এরসাথে পা রাখবেন তৃতীয় দিনের খাবার এ

এখন আসা যাক তৃতীয় দিনের খাবার

শোনো বন্ধুরা,

শুধু তৃতীয় দিনের নয়। ডায়েট চার্ট এর প্রত্যেকটা খাবারের সময় কিন্তু একই থাকবে।

তাহলে বন্ধুরা বাকী দিনগুলোর সময়ের ক্ষেত্রে আর কোন চিন্তা করতে হবে না

খাবারের বেলা হবে আমাদের পাঁচটি। আর খাবারের সময় কিন্তু একই রকম থাকবে। সারা দিন এ  শুধু খাবারের উপকরণ গুলো পাল্টে যাবে।

আপনাদের সময়ের দিকে এবং দিনের দিকে খেয়াল রাখতে হবে না, আপনারা শুধু  খেয়াল করে খাবারের উপকরণ গুলো ভালো ভাবে অনুসরণ করবেন।

তাহলে বন্ধু আসা যাক তৃতীয় দিনে ৫বেলায় কি কি আপনারা খাবেন,…………

সকালে আপনারা এক কাপ তরমুজ, সাথে দুই গ্লাস পানি খাবেন।

মাঝদুপুরে আপনারা একবাটি বরবটি, পেঁপে সাথে মিশিয়ে সিদ্ধ করে খাবেন। সাথে অবশ্য দুই গ্লাস পানি খাবেন। দুপুরের খাবার আপনারা শসা, লেটুসপাতা , টমেটো,  আধা সেদ্ধ করে খাবেন। এক বাটি ফল খাবেন। সাথে এক গ্লাস পানি খেতে হবে।

বিকেলের খাবার

বিকেলে একটি কমলা, পাকা আম খান।

রাতের খাবারে

আপনি রাখবেন সদ্য ফুলকপি, তাজা শাক-,  কাঁচা পেঁপে একবাটি, সাথে দুধ ,পানি খাবেন।

চতুর্থ দিন

চতুর্থ দিনে আপনাকে শুধু শাকসবজি খেতে হবে না ।আপনি বাড়তি কিছু খেতে পারবেন। যেমন সকালের নাস্তায় গরম এক গ্লাস পানি খান। সকালের নাস্তায় গরম  এক গ্লাস দুধ, দুটি কলা খাবেন।

মাঝ দুপুরের খাবার

কলা ও দুধের মিশ্রন খাবেন। দুপুরের খাবার এ  এক বাটি  সবজি খাবেন।

বিকেলের খাবার

এ  একটিমাত্র কলা খাবেন। সাথে অবশ্যই দুই গ্লাস পানি খাবেন।

রাতের খাবার

এ  একবাটি সবজি সুপ, দুধের মিশ্রন খাবেন।

পঞ্চম দিন

পঞ্চম দিনে আপনি গরুর মাংস, টমেটো একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি আপনার শরীরে প্রোটিনের চাহিদা মেটাবে।

সকালের নাস্তা

অল্প আঁচে রান্না করা গরুর মাংস এবং সুপ।

দুপুরের খাবার

মাংস টমেটো দিয়ে তৈরি করা খাবার কম তেলে একটু মসলা দিয়ে রান্না করে নিতে পারেন। রাতের খাবার মুরগির স্যুপ বানিয়ে খেতে পারেন।প্রতিবার পানি খাবেন বেশি করে।

ষষ্ঠ দিনের খাবার

ষষ্ঠ দিনে এসে গরুর মাংসের পাশাপাশি সবজি খেতে পারেন।

সকালের নাস্তা

সকালবেলায় একবাটি সবজি খাবেন।

মাঝদুপুরে এসে গরুর একটি ছোট আকারের তরকারী খেতে নিয়ে খেতে পারেন।

দুপুরের খাবার

মিশ্র সবজি ও গরুর মাংস যেকোনো ফর্মে খাওয়া যেতে পারে। আলো বা রুটি অন্তর্ভুক্ত করবেন না।

রাতের খাবারে

মিশ্র সবজি ও গরুর মাংস যে কোন ফল খাওয়া যাবে।  কিন্তু আলু ও রুটি অন্তর্ভুক্ত করা যাবেনা।

সপ্তম দিন

অর্থাৎ ডায়েটের শেষ দিনে এসে আপনি বাদামি চালের ভাতের মাড় খেতে পারেন। সাত দিনের মাথায় আপনার শরীরে পরিবর্তন আপনি নিজে টের পাবেন।

সকালের নাস্তা

গরম দুধ একটি একটুকরো পেঁপে।

দুপুরের খাবার

অল্প ভাতের সাথে মাছ খান।

বিকেলের খাবার

বিকেলের খাবারে একটিমাত্র শুধু কমলা খাবেন।

রাতের খাবার

একবাটি মিশ্র সবজি সেদ্ধ।

উপরে যেই উপকরণগুলোর কথা আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম এই উপকরণগুলো যদি ধৈর্য ধরে সাতদিন ফলো করতে পারেন তাহলে আপনারা হাতের কাছেই একটি বড় ধরনের পরিবর্তন দেখতে পাবে।

তাহলে বন্ধুরা আর দেরি না করে আমাদের স্বাস্থ্য সম্মত চার্ট টি ফলো করে ফেলুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here