মুখের ব্রণ, দাগ ও মেছতা স্থায়ী ভাবে দূর করার সহজ ঘরোয়া উপায়

0
187
ব্রণ দূর করার সহজ উপায়
ব্রণ দূর করার সহজ উপায়

ব্রণ যাকে বলা হয় একনি। সাধারণত মুখের ত্বকের উপরে এছাড়াও শরীরের কিছু কিছু জায়গায় এই ব্রণ উঠে। দেখতে সাদা গোটার মতো যা এক এক ধরণের সাইজের হয়ে থাকে। আগে এই ব্রণ নিয়ে অনেক চিন্তা করত। কি হব্বে না হবে। কিন্তু এটি এখন একটি সাধারণ সমস্যা হিসেবে ধরে নিয়েছে। সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালের পরে হরমোনের কিছু পরিবর্তনের কারণে এই ব্রণ হয়ে থাকে। এই ব্রণ উঠলে ত্বকে জ্বালা পোড়া, র‍্যাশ, লাল দাগ হয়ে যায়। এই সমস্যার জন্যে অনেকে বিভিন্ন ক্রিম ব্যবহার করে থাকেন। তবে ত্বকের সাথে খাপ খায়না বলে এই ক্রিম ত্বকের বিপরীতে কাজ করে। কিন্তু ত্বকের নিয়মিত পরিচর্যা করলে এই সমস্যা থেকে সমাধান পাওয়া সম্ভব। আমাদের হাতের কাছে কিছু জিনিস রয়েছে যা ব্যবহার করে আপনি সহযে ব্রণের হাত থেকে রক্ষা পাবেন। আসুন জেনে নেই সহজ উপায়ে ব্রণ দূর করার উপায়।

 

১। রূপচর্চায় আমরা মুলতানি মাটির ব্যবহার দেখেছি। সাধারণত যাদের তৈলাক্ত ত্বক তারা বেশির ভাগেই এই মুলতানি মাটি ব্যবহার করেন। এই মুলতানি মাটি বেশির ভাগ তেল শোষন করে এবং লোমকূপ গুলো খুলে দেয় আর তা পরিষ্কার রাখে। ফলে ত্বক ও পরিষ্কার থাকে। ত্বক যখন অতিরিক্ত তেলতেলে হয় তখন ব্রণের সমস্যা বেশি দেখা দেয়। এই ব্রণের ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে মুখে মুলতানি মাটি আর পানি দিয়ে পেস্ট বানিয়ে লাগাতে পারেন। অনেকে রাতে শোয়ার আগে এই কাজ করে থাকেন। এতে মুখ অনেক টান টান আর ফ্রেশ থাকে। দেখবেন ব্রণ উঠা কমে গেছে।

 

২।ব্রণ উঠার প্রধান কারণ হলো মুখের ত্বকের অপরিষ্কার। সাধারণত আমরা অনেক সময় মুখে প্রসাধনী ব্যবহার করার পরে আর মুখ ধুয়ে ফেলিনা। এতে মুখে তৈলাক্ত ভাব জমে যায়। এই তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ উঠে বেশি। কেননা প্রসাধনীর সামগ্রী আমাদের তক্বের সাথে পরিপূর্ণ ভাবে মিশে যায় না। এটি একটি আলাদা আস্তরণ তৈরি করে রাখে। এই আলাদা আস্তরণ আমাদের মুখে তেল ভাব তৈরি করে। যদি মুখ অপরিষ্কার রাখি এতে জেম থাকা তেল ত্বকের ভিতর প্রবেশ করে ত্বককে তৈলাক্ত করে রাখে।

 

৩।অনেকের খাবারের ফলে কিংবা বংশগত কারণে ব্রণ হয়। খাবারে যারা অতিরিক্ত মশলা, তেল ব্যবহার করি সেই খাবার গুলা আমাদের মুখের তেলতেলা ভাব বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া বাইরের খাবারের ফলে মুখের ব্রণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। যাদের বংশগতভাবে ব্রণ হয় তাদের ব্রণ একটা নির্দিষ্ট বয়সে গিয়ে কমে যায়। তবে যদি বুঝা যায় কোনো কিছুর ফলে মুখে ব্রণ উঠে তাহোলে সেই কাজ গুলো পরিহার করা উচিত।

 

৪।আমরা সাধারণত কমলা খেয়ে কমলার খোসা টা ফেলে দেই। কিন্তু এই কমলার খোসা পিম্পলের সমস্যা দূর করতে দারুণ কাজ করে। তাই কমলার খোসা না ফেলে দিয়ে কয়েকটি কমলার খোসা নিন। সেগুলোকে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন। এরপরে অই ব্লেন্ড করা কমলার খোসার সাথে পানি মিশিয়ে পিম্পলের উপরে আধা ঘন্টার মতো রেখে দিন। এরপরে ঠান্ডা পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। ফলাফল নিজেই দেখবেন।

 

৫।ব্রণের থেকে বাঁচার জন্যে পানির কোনো বিকল্প নেই। ডাক্তারেরা ও পরামর্শ দেন বেশি করে পানি পান করার। তবে যারা খালি পানি পান করতে পারেন না তারা মিশ্রণ তৈরি করে পানি খেতে পারেন।যেমন ঘুমানোর আগে আধা চা চামচ আমলকীর গুঁড়া পানির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। এছাড়া আমরা যারা ৩বেলা খাবার খায় ধনে জির ও মৌরিকে একসাথে ১ থেকে ৩ চামচ মিশিয়ে গরম পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি ছেঁকে খেতে পারেন।

 

 

উপরোক্ত পদ্ধতি হতে বুঝতে পারলাম, ব্রণ কোনো আহামরী কিছু না। কিন্তু ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট করে ফেলে। তাই ত্বকের যত্নে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার,ত্বকের যত্নের কোনো বিকল্প নেই। ব্রণ উঠে এসব কাজ আমাদের পরিহার করতে হবে। আর বেশি বেশি পানি পান করতে হবে। তবে ব্রণ থেকে মুক্তি মিলবে।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here