থাইরয়েড গ্রন্থির কি ধরনের সমস্যা হতে পারে ও এর সমাধান

এখন আমরা জানবো এই থাইরয়েড গ্রন্থির কি ধরনের সমস্যা হতে পারে……………

  • জন্মগতভাবে যদি বাচ্চার থাইরয়েড গ্রন্থি তৈরি না হয় অথবা ভুল ভাবে তৈরি হয় ঠিকমতো বৃদ্ধি না পাই অথবা তৈরি হলেও ঠিকমতো কাজ না করে তাহলে থাইরয়েড হরমোন তৈরি হবে না।  সে ক্ষেত্রে বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হবে।
  • আর বড়দের ক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্রন্থির বিভিন্ন রকম রোগ হতে পারে। এটি একটি স্বাভাবিক মাত্রার মধ্যে থাকবে তবে যদি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কম তৈরি হয় একে বলা হয় হাইপোথাইরোডিজম। এতে বিভিন্ন রকম অসুবিধা হয়। আবার যদি বেশি মাত্রায় তৈরি হয়, তখন বলা হয় তাঁকে হাইপার থাইরয়েডিজম। সেখানে আবার নানারকম সমস্যা দেখা যায়।
  • এছাড়া আরো যে সমস্যা হতে পারে, তা হল থাইরয়েড গ্রন্থি নিজেই বড় হয়ে যেতে পারে। যাকে আমরা বলি গলগন্ড। থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে যায় এটি বিভিন্নভাবে বড় হতে পারে, বিভিন্ন কারণে বড় হতে পারে,
  • আয়োডিনের অভাব আছে এমন এলাকায় যারা বাস করে তাদের হতে পারে বা যারা কম খায় তাদের হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আয়োডিনের অভাব পূরণ করা দরকার। গ্রন্থি টি সমানভাবে যাতে থাকে আয়োডিন যেহেতু হরমোন তৈরির বিশেষ একটি উপাদান আয়োডিন এর ক্ষমতাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করবে। শরীরের হরমোন কে স্বাভাবিক রাখতে সে ক্ষেত্রে সে আস্তে আস্তে বড় হয়ে যাবে যাকে হাইপার্ত্রফি বলা হয়। গ্রন্থি বড় হয়ে যাবে তবে হরমোন স্বাভাবিকভাবে বের করার চেষ্টা করবে। এই রকম চেষ্টা করতে করতে স্বাভাবিকভাবে হরমোন তৈরি করতে আর পারেনা। সে ক্ষেত্রে হাইপোথাইরোডিজম হয়ে যাবে। যদি ও  লবণ এর  আয়োডিন থাকার কারণে আমাদের দেশে এই রোগ অনেকটা এখন কমে গেছে।
  • এছাড়াও থাইরয়েড গ্রন্থি তে আরো বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। থাইরয়েড গ্রন্থিতে  টিউমার হতে পারে। যেটাকে নডিউল বলা হয়। সিঙ্গেল নডিউল হতে পারে আবার মাল্টিপল হতে পারে। সিস্ট হতে পারে। এগুলো সবই ক্যান্সার তৈরিকারী নয়। তবে অনেক সময় ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। যাকে সাধারনত থাইরয়েড ক্যান্সার বলা হয়ে থাকে।

এখন আমরা জানবো………

এখন আপনাদের সাথে আলোচনা করব থাইরয়েড গ্রন্থিকে সুস্থ্য রাখার কয়েকটি টিপস………

  • উচ্চমানের প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া দরকার। থাইরয়েড হরমোন তৈরি করতে প্রোটিনযুক্ত খাবার খুব বেশি সহায়তা করে। যেমন লাল মাংস, মাছ, মুরগি,ডিম ও মাংস, মিষ্টি কুমড়ার বিচি।
  • বিভিন্ন ধরনের চর্বিজাতীয় খাবার বা আরও বিভিন্ন ধরনের খাবার রয়েছে যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, চিনাবাদাম, সয়া সস, ইত্যাদি এই ধরনের খাবার।
  • সাধারণত বলা হয়ে থাকে যে খাবারগুলো রান্না করে খাবেন, কাঁচা খাবার খাওয়া যাবেনা। আর থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে এই খাবার খাওয়া একদমই উচিত নয়।
  • প্রোটিনযুক্ত খাবার খাবেন। ইমিউনো সিস্টেমকে ঠিক রাখার জন্য যেমন শস্যদানা, এ ধরনের খাবারগুলো খেতে হবে।
  • থাইরয়েড ঠিক রাখার জন্য লিভারের সুস্থতা দরকার। আর লিভার সুস্থ থাকার জন্য ফ্যাটি এসিড যুক্ত খাবার খেতে হবে। বিভিন্ন তেলযুক্ত মাছ, কাঁচা বাদাম, এসব খেতে হবে।
  • আয়োডিনযুক্ত খাবার লবণ খাবে।
  • কীটনাশক যুক্ত বা  বিভিন্ন ধরনের হেভি মেটাল এই ধরনের জিনিস গুলো নেওয়া যাবে না।

বন্ধুরা, উপরে যে সকল পরামর্শগুলো দিয়েছি এই সকল পরামর্শগুলো যদি আমরা অনুসরণ করতে পারি, খুব সহজে আমরা থাইরয়েড গ্রন্থির বিভিন্ন রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারব। বন্ধুরা থাইরয়েড গ্রন্থির কোন সমস্যা হলে আমাদের নিত্য দৈনন্দিন কাজ করতে অনেক অসুবিধা হয়ে যায়। তাই বন্ধুরা আমাদের উচিত আমাদের দেওয়া এসকল পরামর্শ গ্রহণ করে সুস্থ থাকা।

 

Leave a Comment