ত্বক হতে রোদেপোড়া দাগ দূর করে ত্বক ফর্সা করার উপায়

আজ আমি আপনাদের সাথে এমন কয়েকটি ফেইসমাস্ক শেয়ার করব যে গুলো মাত্র ২ থকে ৩ বার ব্যবহারে আপনি আপনার ত্বক হতে রোদেপোড়া দাগ সহ সকল ধরণের কালোদাগগুলোকে দূর করে ফেলতে পারবেন।

রোদেপোড়ার কারণে ও ত্বকে মেছতা দেখা দিলে আমাদের ত্বক আগের চেয়ে দিন দিন কালো হয়ে পড়ে। এই ফেইসমাস্ক গুলো নিয়মিত কিছুদিন ব্যবহার করলে রোদে পোড়া দাগের পাশাপাশি ত্বক হতে মেছতা ও ব্রণের দাগগুলো দূর হয়ে যাবে এবং আপনার স্কিন টোন ব্রাইট হতে থাকবে ।

দাগমুক্ত চকচকে ত্বকের জন্য অসাধারণ ঘরোয়া স্কিন লাইটেনিং ফেইসমাস্ক গুলো কিভাবে ব্যবহার ও তৈরি করতে হবে তা দেখে নিন।

ফেইসমাস্ক -১

অ্যাভোকাডোর ফেস মাস্কঃ

ত্বক কে গভীর থেকে উজ্জ্বল, ফর্সা এবং সম্পূর্ণরূপে দাগহীন করতে অ্যাভোকাডো ফেইস মাস্ক অত্যন্ত কার্যকরী।

একটি অ্যাভোকাডো ফলের পেস্ট।

1 চা-চামচ অ্যালোভেরার জেল।

আধা চা চামচ অলিভ অয়েল।

1 চা চামচ বেসন।

উপকরণগুলো একটি পরিষ্কার পাত্রে নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে তৈরি করে নিন এভোকাডোর ফেস মাস্ক।

উপকারিতাঃ

ত্বক কে দাগ মুক্ত উজ্জ্বল ও ফর্সা করে তুলবে।

ত্বকের লোমকূপের শক্তি জোগাবে মৃতকোষ দূর করবে।

বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দূর করবে।

ফেইসমাস্ক-২

শসার ফেস মাস্কঃ

সেনসিটিভ ত্বকের জন্য শসার ফেস মাস্ক অত্যন্ত কার্যকরী।

আধা কাপ শসার রস।

1 চা চামচ মধু।

1 চা চামচ দুধ।

আধা চা চামচ লেবুর রস।

উপকরণ সমূহ ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে তৈরি করে নিন শসার ফেস মাস্ক।

উপকারিতাঃ

ত্বকের অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা দূর করে।

ত্বক কে গভীর থেকে উজ্জ্বল ফর্সা এবং চকচকে করে তোলে।

ডার্ক সার্কেল দূর করে।

ত্বক থেকে বিভিন্ন ধরনের দাগ দূর করে।

ফেইসমাস্ক-৩

বেসন এর ফেস মাস্কঃ

2 চা চামচ বেসন।

2 চা চামচ কাঁচা তরল দুধ।

1 চা-চামচ মধু।

আধা চা-চামচ কাঁচা হলুদ।

উপকরণ গুলো ভালভাবে মিশিয়ে তৈরি করে নিন বেসনের অত্যন্ত কার্যকরী ফেস মাস্ক।

উপকারিতাঃ

ত্বক কে কাঁচা হলুদের মত ফর্সা করে তুলবে।

অতিমাত্রায় উজ্জ্বল ও ফর্সা করে তুলবে।

ত্বক থেকে সব ধরনের দাগ, ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস দূর করবে।

ব্রণ এবং ব্রণের দাগ দূর করবে।

ফেইসমাস্ক-৪

চন্দন পাউডার এর ফেস মাস্কঃ

দ্রুত সময়ে ত্বককে ফর্সা উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় করতে চন্দন পাউডার এর ফেস মাস্ক অত্যন্ত কার্যকরী।

2 চা চামচ চন্দন পাউডার।

আধা চা-চামচ কাঁচা হলুদ।

1 চা চামচ এলোভেরা জেল।

1 চা চামচ মধু।

উপকরণগুলো একটি পরিষ্কার পাত্রে ভালোভাবে মিশিয়ে দিয়ে তৈরি করে নিন চন্দন পাউডার এর অত্যন্ত কার্যকরী ফেস মাস্ক।

উপকারিতাঃ

ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিবে।

ব্রণের দাগ, ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস, ডার্ক সার্কেল এবং সানবার্ন সবকিছুই দূর করবে।

ত্বক কে সতেজ কোমল এবং মসৃণ করে তুলবে।

মুলতানি মাটির ফেস মাস্কঃ

মাত্র 20 মিনিটে ত্বক দাগ মুক্ত, ফর্সা, উজ্জ্বল এবং আকর্ষনীয় করে তুলতে মুলতানি মাটির ফেস মাস্ক  অত্যন্ত কার্যকরী।

2 চা চামচ মুলতানি মাটি।

1 চা চামচ অলিভ অয়েল।

1চা চামচ মধু।

পরিমাণমতো গোলাপজল।

উপকরণসমূহঃ ভালোভাবে মিশিয়ে ঘন একটি পেস্ট তৈরি করে । মুলতানি মাটির ফেস মাস্ক তৈরি করে নিন।

উপকারিতাঃ

ত্বক কে গভীর থেকে উজ্জ্বল ফর্সা এবং আকর্ষণীয় করে তুলবে।

ব্রণ এবং ব্রণের দাগ, বলিরেখা ডার্ক সার্কেল দূর করবে।

ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া ভাব দূর করে ত্বক কে টানটান রাখবে।

ব্যবহার পদ্ধতিঃ

উপরে আলোচিত ফেস মাস্ক গুলো ত্বকে ব্যবহারের জন্য প্রথমেই আপনার ত্বক পরিষ্কার জলে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন।

তুলা বা নরম কিছুর সাহায্যে ফেসমাস্ক আপনার মুখে ভালোভাবে স্ক্রাব করে লাগিয়ে নিন।

5 থেকে 7 মিনিট আলতোভাবে আপনার তো ভালভাবে মাসাজ করুন।

15 থেকে 20 মিনিট শুকানোর জন্য সময় দিন।

কুসুম গরম জলে তুলা ভিজিয়ে মিশ্রণটি ঘষে ঘষে তুলে নিন।

সবশেষে ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে নিন।

বিঃদ্রঃ

ফেস মাস্ক এ ব্যবহৃত কোন উপাদান আপনার ত্বকের জন্য এলার্জিক হলে তা ব্যবহার করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।

ফেস মাস্ক ব্যবহারের পর আপনার ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে নিন।

ফেস মাস্ক লাগিয়ে রোদে,  ধুলাবালি যুক্ত স্থানে অথবা গরম স্থানে যাবেন না।

ত্বকে ম্যাসাজ করার সময় অতিরিক্ত প্রেসার দিবেন না।

স্থায়ীভাবে ত্বক কে উজ্জ্বল ফর্সা এবং দাগহীন করতে চাইলে সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার ফেস মাস্ক ব্যবহার করুন।

প্রায় সমস্ত উপকরণ সমূহ ভেষজ গাছের দোকান এবং প্রসাধনীর দোকানে পাওয়া

Leave a Comment