হয়ে যাক প্রতিদিন ১ কাপ গ্রিন টি। গ্রিন টি এর উপকারিতা

বিশ্বজুড়ে চা বা কফির সাথে কিংবা চা বা কফির বিকল্প হিসেবে গ্রিন টি দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন
অবসাদ মিটাতে কিংবা নিজের শরীর ক্লান্ত শরীরকে সতেজ করার জন্য এক কাপ গ্রিন টি সবাই পান করে থাকেন কিন্তু আমরা নিয়মিত গ্রীন টি পান করলেও অনেকে এর উপকারিতা ও অপকারিতা সর্ম্পকে জানিনা কেউ যদি কোন কিছু নিয়মিত পান করেন তাহলে অবশ্যই এর উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত কারণ কতটুকু পরিমান আমরা গ্রিন টি পান করলে আমরা সঠিক উপকারিতা পেতে পারে সেই তথ্যটা আমাদের জানা উচিত আর কতটুকু পরিমান বৃদ্ধি পান করলে আমাদের উপকার হতে পারে সেটাও জানা উচিত তাহলে আমরা এর উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান এর উপকারিতা টুকু নেবার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পান করতে পারব।
তাই চলুন আমরা জেনে নিই গ্রিন টি পানের সঠিক উপকারিতা এর অপকারিতা গুলো কি কি এবং এটি কোন সময় পান করা উচিত এবং কোন সময় পান করা উচিত নয় এবং বৃদ্ধি তৈরির সঠিক পদ্ধতি গুলো কি কি?
তাহলে চলুন প্রথমেই জেনে নিন গ্রিন টি এর উপকারিতা ঃ
১। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য গ্রিন টি’র কোনো জুড়ি নেই ভিটামিন এ এবং সি এর চেয়েও একটি শক্তিশালী ভিটামিন হচ্ছে কেটেছি নামক উপাদান যেটি রয়েছে গ্রিন টির মধ্যে তাই গ্রিন টি খেলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং রোগ হবার প্রবণতা কমে যায় তাই যারা নিজেদের শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চান তারা প্রতিদিন 1 কাপ গ্রিন টি খেতে পারেন
২। শরীরে এলার্জি রয়েছে গ্রিন টি এলার্জি সমস্যা দূর করতে অনেক উপকারী এছাড়া ও বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন গ্রিন টি হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমায় এবং এটি আমাদের শরীরের রক্ত চলাচল কে নিয়ন্ত্রণ করে এটি ত্বকের এলার্জি এ্যাজমা সহ নানা ধরনের রোগের সমস্যার সমাধান করে
৩। এমন একটি রোগ যেটি হলে মানুষের বাঁচার সম্ভাবনা কমে যায় তাই এই মরণব্যাধি ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য প্রতিদিন একটা করে গ্রিন টি খেতে পারেন কারণ বৃষ্টির মধ্যে থাকা উপাদানগুলো শরীরে ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতাকে কমিয়ে আনে তাই নিজেদের শরীরকে ক্যান্সারমুক্ত রাখার জন্য গ্রিন টি খেতে পারেন
৪। গ্রিন টি আমাদের শরীরের ওজন কে দ্রুত কমিয়ে আনতে সাহায্য করে যায় তাই যাদের শরীরে অনেক বেশি চর্বি এবং মোটা তারা নিজেদের ওজনকে জড়িয়ে ফেলার জন্য এই গ্রিন টি পান করতে পারেন কারণ শরীরের মধ্যে থাকা ক্ষতিকর চর্বি পুড়িয়ে ফেলতে গ্রিন টি অসাধারণ কাজ করে
৫। সারাদিন কর্মব্যস্ত থাকার পর যদি একটা গ্রিন টি পান করেন তাহলে সারাদিন এর সমস্ত স্ট্রেস কমে যায় কারণ গ্রিন-টি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এসএসএস কমাতে অনেক বেশি সাহায্য করে তাই নিজেকে কর্মব্যস্ত দিন শেষে নিজেকে চাঙ্গা করে তোলার জন্য গ্রিন টি খেতে পারেন
৬। আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যাদের সারাবছরই ঠান্ডা লাগার ধ্যাৎ রয়েছে তাই শীতকাল ছাড়াও তাদের ঠান্ডা লাগার দাগ রয়েছে তারা গ্রীন টি পান করতে পারেন কারন গ্রিন টি ঠান্ডা সর্দি কাশি থেকে রক্ষা করে
৭। প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশে এবং চীনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে ভেষজ ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা গ্রিন টি এর ব্যাবহার হয়ে আসছিল তখনকার দিনে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে ক্ষতস্থান সারাতে এবং দেহের বিভিন্ন হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে থাকত বিদায় শরীরের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের জন্য এরা গ্রীন টি ব্যবহার করে থাকে
৮। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে গ্রীন টি পান এ মানুষের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে আসে যারা দৈনিক পাঁচ কাপ গ্রিন চিকেন তাদেরকে দৈনিক এক কাপ গ্রিন টি খাওয়া ব্যক্তিদের চেয়ে এই রোগের ঝুঁকি অনেক বেশি কম । তাই এই গবেষণা হতে বলা যেতে পারে গ্রিন টি আমাদের শরীরে হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনে
৯। আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন আমাদের শরীরের মধ্যে দু’ধরনের ডায়াবেটিস রয়েছে কিন্তু তার মধ্যে বর্তমান বিশ্বের টাইপ টু ডায়াবেটিস অনেক বেশি বেড়ে চলেছে গ্রিন টির মধ্যে এক প্রকার ইনসুলিন উৎপাদন
একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে গ্রিন টি শরীরে ইনসুলিনের উৎপাদনকে অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয় যার ফলে রক্তের শর্করার হার কমে যায় এর কারণে আমাদের শরীর হতে টাইপ-টু ডায়াবেটিস হওয়া প্রতিরোধ হয় তাই বলা যায় প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যদি গ্রিন টি রাখা যায় তাহলে টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় 42 শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় ।
১০। মস্তিষ্ককে সচল রাখতে গ্রিন টি কাজ করে এছাড়াও এটি অকাল বার্ধক্যের মত সমস্যাকে সমস্যার হাত থেকে মস্তিষ্ককে রক্ষা করতে অনেক উপকারী তাই যারা অকাল বার্ধক্যের হাত থেকে মস্তিষ্ককে রক্ষা করতে চান তারা প্রতিদিন এক কাপ করে গ্রিন টি পান করুন
১১। গ্রিন টি আমাদের ত্বককে সতেজ এবং সুন্দর করার জন্য কাজ করে এছাড়াও এটি শরীরের প্রদাহজনিত রোগ নিরাময় করে যার ফলে আপনি যদি গ্রিন টি পান করেন তাহলে ত্বকের কোষ সমূহ অনেক বেশি সতেজ থাকে ।
এতক্ষণ তো আমরা গ্রিন টির উপকারিতা গুলো জানলাম এখন আমি আপনাদেরকে জানিয়ে দিব গ্রিন টি এর উপকারিতা বা পার্শপ্রতিক্রিয়া গুলো কারণ গ্রিন টি ইচ্ছেমতো পান করলে হবেনা এর উপকারিতা এবং অপকারিতা পার্শপ্রতিক্রিয়া গুলো জেনে আপনাদের গ্রিন টি পান করা উচিত চলুন আমরা জেনে নিই গ্রিন টি এর অপকারিতা গুলো
গ্রিন টি এর অপকারিতাঃ
১। যাদের কেফেইন গ্রহণের সমস্যা রয়েছে তারা অতিরিক্ত গ্রিন টি পান করলে তাদের অনেকটা হতে পারে অথবা বমি বমি ভাব ও পাকস্থলীর সমস্যা হতে পারে তাই যাদের কেফেইন গ্রহণের সমস্যা রয়েছে তারা গ্রিন টি পান করা থেকে বিরত থাকুন
২। গ্রিন টি পান অনুচক্রিকার রক্ত জমাট বাঁধার কার্যকারিতা হ্রাস পায় তাই যারা অতিমাত্রায় গ্রিন টি পান করেন তারা এই অতিরিক্ত গ্রীন টি পান হতে দূরে থাকুন
৩। ক্যান্সার হৃদরোগ এর মত সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকলেও যাদের ইতিমধ্যেই হূদরোগ কিডনি বা লিভারের সমস্যা ও পাকস্থলীর আলসার সহ বিভিন্ন ধরনের উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যায় ভুগছেন তারা এই মুহূর্তে গ্রিন টি কে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে খাওয়া খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। যাদের উপরোক্ত সমস্যাগুলো রয়েছে তারা এটি সেবনে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন আর আপনাদের যদি গ্রিন-টি একান্তই খেতে হয় তাহলে আপনারা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে গ্রিন টি পান করবেন
৪। গর্ভবতী কিংবা দুগ্ধজাত অর্থাৎ বুকের দুধ পান শিশুদেরকে বুকের দুধ পান করান এমন মায়েদের জন্য অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করা মোটেও উচিত নয় তাই দৈনিক 300 মিলিগ্রাম বাচ্চা কাফের বেশি গ্রিন টি পান করলে এমন মায়েদের সমস্যা হতে পারে তাই গ্রীন টি’র নিজের কিংবা সাপ্লিমেন্ট হিসেবে এটি গ্রহণ থেকে আপনাদের বিরত থাকতে বলা হচ্ছে
৫। সঠিক সময়ে গ্রিন টি পান না করলে আপনাদের হজমের সমস্যা হতে পারে তাই গ্রিন টি খাওয়ার সঠিক সময় জেনে নিয়ে এটি উপযুক্ত সময়ে পান করা উচিত এতে করে আপনাদের স্বাস্থ্য উপকারিতাও বাড়বে এবং গ্রিন টির অপকারিতার হাত থেকে রক্ষা পাবেন ।
গ্রিন টি কোন সময় পান করা উচিত এবং কোন সময় পান করা উচিত নয়?
১।খালি পেটে গ্রিনটি খাওয়া একেবারেই উচিত নয় এটি খালি পেটে খেলে অনেক বেশি সমস্যা দেখা দিতে পারে তাই আপনারা গ্রিন টি কখনোই খালি পেটে খাবেন না
তাই কমপক্ষে এক ঘন্টা আগে বা খাবার গ্রহণের এক ঘন্টা পর গ্রিন টি পান করতে পারেন । তবে একদম খালি পেটে গ্রিনটি পান করবেন না ।
২। শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার জন্য ব্যায়াম করার পরে নয় ব্যায়াম করার আধঘন্টা আগে গ্রিন টি পান করুন । এতে করে শরীরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে ।
৩। শরীরের ক্লান্তি দূর করার জন্য যারা কর্মব্যস্ততা সেরে রাতে গ্রিন টি পান করতে চান তারা অবশ্যই রাতে গ্রিন টি পান করতে পারেন । তবে গ্রিন টি পান করার সময় হচ্ছে ঘুমাতে যাবার 2 ঘণ্টা আগে অর্থাৎ আপনারা ঘুমাতে যাবার কমপক্ষে 2 ঘণ্টা আগে গ্রিন টি পান করবেন । তা না হলে ঘুমের সমস্যা হতে পারে
৪। আমি আপনাদের আগেই বলেছি খালি পেটে গ্রিনটি পান করলে অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে তাই কখনোই খালি পেটে গ্রিন টি পান করবেন না নাস্তা করার কমপক্ষে এক ঘন্টা পর গ্রিন টি পান করবেন ।
আর এগুলোই হচ্ছে গ্রিন টি পান করার উপযুক্ত সময় ।
গ্রিন টি তৈরীর সঠিক পদ্ধতিঃ
পান করলেও এটি তৈরি করার সঠিক পদ্ধতি জানে না যার কারণে আমরা গ্রিন টি পান করলেও এর সঠিক উপকারিতা পায় না তাই আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি গ্রিন টি তৈরীর পদ্ধতি
১ । গ্রিন টি তৈরির সঠিক পদ্ধতি গুলো হচ্ছে গ্রিন টি কখনোই টগবগে ফুটন্ত পানিতে দেয়া যাবে না কমপক্ষে 50 ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নিতে হবে তা না হলে আপনারা যদি ফুটন্ত গরম পানিতে বিদ্যামান সিম নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে
২। গ্রিন টি দেওয়ার পর পানিতে কমপক্ষে তিন মিনিট রেখে দিতে হবে । 3 মিনিটে পানিতে ডুবিয়ে রাখলেই আপনারা এর উপকারিতা পাবেন । তবে তিন মিনিটের বেশি সময় পানিতে ডুবিয়ে রাখা উচিত নয়।
৩। যাদের শুধু গ্রিন টি পান করতে ইচ্ছে করেনা তারা গ্রিন টি এর সাথে লেবুর রস অথবা মধু ব্যবহার করতে পারেন । কিন্তু গ্রিন টি সাথে কখনোই দুধ বা চিনি ব্যবহার করা উচিত নয় । এতে করে গ্রিন টির উপকারিতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।
বন্ধুরা আপনারা তো সবাই গ্রিন টির উপকারিতা ও অপকারিতা ,এটি খাবার সঠিক সময় এবং এটি তৈরির নিয়ম জেনে নিলেন । তাহলে আজ হতে সঠিক পদ্ধতিতে গ্রিন টি তৈরি করে সঠিক সময়ে এটিকে পান করে আপনারা এর উপকারিতা গুলো উপভোগ করুন ।

Leave a Comment